Web bengali.cri.cn   
সংবাদ পর্যালোচনা: 'চীনে খাদ্যশস্য নিরাপত্তা' শীর্ষক শ্বেতপত্র প্রকাশিত
  2019-10-19 13:36:12  cri

চীন সরকার গত সোমবার 'চীনে খাদ্যশস্য নিরাপত্তা' শীর্ষক শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে। শ্বেতপত্রে চীনের খাদ্যশস্য নিরাপত্তা কৌশল, বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষা ও অভিন্ন উন্নয়ন জোরদারের ক্ষেত্রে অবদান এবং ভবিষ্যতে চীনের খাদ্যশস্য নীতি ও প্রস্তাব ব্যাখ্যা করেছে। শ্বেতপত্রে বলা হয়, চীন সাফল্যের সঙ্গে ১৪০ কোটি মানুষের খাদ্যসমস্যার সমাধান করেছে। এই শ্বেতপত্রের মাধ্যমে চীনের দারিদ্র্যবিমোচনের বিষয়টিও উঠে এসেছে। প্রিয় শ্রোতা, বিস্তারিত থাকছে আজকের সংবাদ পর্যালোচনায়।

চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের তথ্যকার্যালয় সোমবার 'চীনের খাদ্যশস্য নিরাপত্তা' শীর্ষক শ্বেতপত্র প্রকাশ করে। এর আগে, ১৯৯৬ সালে খাদ্যশস্যের নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রথম শ্বেতপত্র প্রকাশ করে চীন।

শ্বেতপত্রে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর বিগত ৭০ বছরে চীনে খাদ্যশস্যের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। চীনের খাদ্যশস্যের বাজার অনেক উন্মুক্ত হয়েছে। বিশ্বের খাদ্যশস্যের বাণিজ্যিক উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, খাদ্যশস্য ও কৃষি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গভীরতর করা এবং বৈশ্বিক খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা সুরক্ষা করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে চীন।

এই শ্বেতপত্রে প্রায় ১২ হাজার শব্দ রয়েছে। এতে ভূমিকা ও উপসংহারসহ ৬টি অংশ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের খাদ্যশস্য নিরাপত্তার সাফল্য, চীনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন খাদ্যশস্য নিরাপত্তার পথ, বৈদেশিক উন্মুক্তকরণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্ভাবনা ও নীতিগত অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়। এর মাধ্যমে চীনের খাদ্যশস্য নিরাপত্তায় অর্জিত ঐতিহাসিক সাফল্য ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) অষ্টাদশ জাতীয় কংগ্রেসের পর খাদ্যশস্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চীনের নেওয়া ধারাবাহিক নীতিগত ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় এই শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়।

শ্বেতপত্রে বলা হয়, বিগত ৭০ বছরে দুর্বল কৃষি ও জনগণের জীবনযাপনের দরিদ্র অবস্থার প্রেক্ষাপটে সিপিসি'র নেতৃত্বে কঠোর সংগ্রাম ও অটল প্রচেষ্টার মাধ্যমে চীনা জনগণ খাদ্যশস্যে মৌলিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাস্তবায়ন করেছে। এই প্রক্রিয়ায় জনসাধারণের জীবনযাপনের গুণগত মান ব্যাপকভাবে বেড়েছে। খাদ্যশস্য নিরাপত্তায় অর্জিত সাফল্য উল্লেখযোগ্য বলেও শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়। চীনে খাদ্যশস্য উত্পাদনের পরিমাণ স্থিতিশীলভাবে বাড়ছে। দেশে মাথাপিছু খাদ্যশস্যের পরিমাণ বিশ্বের গড় মানের উপরে রয়েছে। শ্বেতপত্রে বলা হয়, চীনের জনসংখ্যা বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। কিন্তু খাদ্যশস্য উত্পাদনের পরিমাণ প্রায় বিশ্বের চার ভাগের এক ভাগ। চীন নিজের খাদ্যশস্যের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। এটি হলো চীনা জনগণের নিজস্ব উন্নয়নের মহা সাফল্য এবং বিশ্বের খাদ্যশস্য নিরাপত্তায় চীনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

শ্বেতপত্রে আরো বলা হয়, খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে চীন বিশ্বের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চায়। চীন খাদ্যশস্য উন্মুক্তকরণের নতুন পরিস্থিতি গড়ে তুলবে এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করবে। চীনে খাদ্যশস্যের বাজার আরও উন্মুক্ত হয়েছে। খাদ্যশস্য-সংক্রান্ত বিদেশি পুঁজিবিনিয়োগকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের খাদ্যশস্য রূপান্তরের পরিমাণ ও বিক্রির আয় অব্যাহতভাবে বেড়েছে। যা ২০১৮ সালে আলাদাভাবে গোটা চীনের খাদ্যশস্য আয়ের ১৪.৫ ও ১৭ শতাংশে উন্নীত হয়।

শ্বেতপত্রে বলা হয়, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ডাব্লিউটিওতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কঠোরভাবে মেনে চলে চীন। এই প্রক্রিয়ায় কৃষি পণ্যের আমদানি সংক্রান্ত কোটা ব্যবস্থাসহ শুল্কমুক্ত ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, গম, ভুট্টা ও চালের ওপর আমদানিসংক্রান্ত কোটা ব্যবস্থা আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া, অন্যান্য খাদ্যশস্যের আমদানি শুল্কের পরিমাণও ব্যাপকভাবে কমিয়েছে সরকার। শ্বেতপত্রে আরো বলা হয়, দেশের খাদ্যশস্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ভিত্তিতে ডাব্লিউটিও'র প্রতিশ্রুতি মেনে চলা এবং বিশ্বের বিভিন্ন খাদ্যশস্য উত্পাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে খাদ্যশস্য বাজারের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে ইচ্ছুক চীন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে চীনের খাদ্যশস্য উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি টন। যা, ১৯৭৮ সালের তুলনায় ১১৬ শতাংশ বেশি। বর্তমান চীনের মাথাপিছু খাদ্যশস্যের পরিমাণ প্রায় ৪৭০ কেজি; যা বিশ্বের গড় মানের চেয়েও বেশি। বিশ্বের নয় শতাংশ আবাদি জমি ও ছয় শতাংশ টাটকা জলসম্পদ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের খাদ্যসমস্যার সমাধান করেছে চীন। এখন চীন সার্বিকভাবে সচ্ছল সমাজ গড়ে তোলার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

(লিলি/আলিম)

© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040