হংকংয়ের অভিনেতা ইয়াম টাট ওয়াহ
2021-08-19 10:22:38

হংকংয়ের অভিনেতা ইয়াম টাট ওয়াহ_fororder_ヴ笷地

হংকংয়ের অভিনেতা ইয়াম টাট ওয়াহ_fororder_ヴ笷地1

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার ৯০তম বার্ষিকীতে ‘Beginning Of The Great Revival’ নামের এক চলচ্চিত্রে তিনি বিখ্যাত শিল্পপতি চাং চিয়েনের চরিত্রে অভিনয় করেন। এর মাধ্যমে তিনি এই চলচ্চিত্রে প্রথম আবির্ভূত হন। গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ৭০তম বার্ষিকী উদযাপনের সময় প্রদর্শিত ‘My PeopleMy Country’ নামের চলচ্চিত্রে তিনি একজন ঘড়ি মেরামতকারীর চরিত্রে অভিনয় করেন। ম্যাকাওয়ের মাতৃভূমির কোলে ফিরে আসার ২০তম বার্ষিকীতে প্রদর্শিত টিভি নাটক ‘ম্যাকাও পরিবারে’ তিনি শত বছরের ইতিহাসসম্পন্ন কেকের দোকানের মালিকের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তিনি নিজের সরল ও আন্তরিক অভিনয়ের মাধ্যমে চায়না টিভি গোল্ডেন ঈগল অ্যাওয়ার্ড (China TV Golden Eagle Award) লাভ করেন।

 

এত বেশি মূল ধারার চলচ্চিত্র বা টিভি নাটকে অভিনয় করা ব্যক্তিটি হলেন হংকংয়ের একজন অভিনেতা। বিনোদন-জগতে প্রবেশের ৪০ বছরে অভিনয় দক্ষতা ও চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে জনগণের প্রশংসাও অর্জন করেছেন। তিনি হলেন হংকংয়ের অভিনেতা ইয়াম টাট ওয়াহ।

 

চলতি বছর হলো চীনের কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিসি প্রতিষ্ঠার শততম বার্ষিকী। ইয়াম টাট ওয়াহ বলেন, গত শতাব্দীর বিশের দশকে সিপিসি প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের অভিজ্ঞতা তিনি লাভ করেন নি। তবে, অভিনয়ের মাধ্যমে ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেরে তিনি গৌরব বোধ করেন। বর্তমানে মহামারী প্রতিরোধ বা দারিদ্র্যবিমোচন, যাই হোক, চীন উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এর কারণ হলো- সিপিসি বরাবরই জনগণের সুখ-শান্তিকে প্রথম স্থানে রেখেছেন।

 

ইয়াম টাট ওয়াহ মনে করেন, ভালো চলচ্চিত্র সবসময় ইতিবাচক শক্তি পৌঁছে দেয়।

জাতীয় সংগীতের শব্দের সঙ্গে সঙ্গে ভবনের উপরে রেডিও’র অনুষ্ঠান শোনা এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ডান হাত বুকে রেখে জল ভরা চোখে আকাশের দিকে তাকাচ্ছেন। মাতৃভূমির কোলে হংকংয়ের ফিরে আসার বার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে। অন্ধকার আকাশে আতশবাজি আলো ছড়াচ্ছে। এটা হলো ‘My PeopleMy Country’ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য। এখানে ইয়াম টাট ওয়াহের অভিনীত ঘড়ি মেরামতকারীর চরিত্রে একটি কথাও নেই। তবে, এই দৃশ্য দেখতে দারুণ আকর্ষণীয়।

 

বাস্তব জীবনে মাতৃভূমির কোলে হংকংয়ের ফিরে আসার সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত নিঃসন্দেহে তার মনে গভীর দাগ কেটেছিল।

১৯৯৭ সালের ৩০ জুন রাতে তিনি বাসায় টিভিতে ক্ষমতা হস্তান্তর অনুষ্ঠান দেখেছিলেন। পহেলা জুলাই রাত ১২টায় জাতীয় সংগীত বাজার সঙ্গে সঙ্গে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের জাতীয় পতাকা এবং হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের পতাকা আস্তে আস্তে উত্তোলন করা হচ্ছিল। সেই বছরের দৃশ্যের কথা মনে করে ইয়াম টাট ওয়াহ আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘তখন বাইরে বৃষ্টি পড়ছিল। আমার চোখও ভিজে উঠছিল। আমরা অবশেষে নিজেদের পরিচয় জানতে পেরেছি। আমি চীনা।’

 

‘ম্যাকাও পরিবার’ নামের টিভি নাটকে ইয়াম টাট ওয়াহ শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কেকের দোকানের উত্তরাধিকারী লিয়াং তিং ওয়েনের চরিত্রে অভিনয় করেন। দাঙ্গাহাঙ্গামার মধ্যে তিনি গোটা পরিবারকে শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন এবং অবশেষে উন্নয়নের সুযোগ ও আশা সামনে আসে। লিয়াং তিং ওয়েনের শক্ত হয়ে টিকে থাকা হলো ম্যাকাওবাসীর ক্ষুদ্র চিত্র। বিশ্বাস নিয়ে মাতৃভূমির পাশে দাঁড়ানো একদল সাধারণ ম্যাকাওবাসীর কারণে উন্নত ও সমৃদ্ধ ম্যাকাওয়ের জন্ম হয়েছিল।

 

‘ক্রেডিট, মন ও আত্মবিশ্বাসের অধিকার করা’ হলো লিয়াং তিং ওয়েনের পারিবারিক নীতিবাক্য। এতে ইয়াম টাট ওয়াহও একমত ছিলেন। তিনি বলেন, হংকং ম্যাকাওয়ের মতো, আগের যুগ থেকে ধীরে ধীরে নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। মাতৃভূমির ওপর নির্ভর করলেই হংকংয়ের উন্নতি ও অগ্রগতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

 

‘Beginning Of The Great Revival’ নামের চলচ্চিত্রে তিনি বিখ্যাত শিল্পপতি চাং চিয়েনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি আগে এ ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেন নি। অভিনয়ের অংশ বেশি না হলেও সিপিসি প্রতিষ্ঠা-সংক্রান্ত একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সুযোগ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

 

চলচ্চিত্র পরিচালকের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট ইতিহাস শোনা ছাড়াও, তিনি নিজ উদ্যোগে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন এবং চরিত্র ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপট জেনে নিয়েছেন।

ইয়াম টাট ওয়াহ মনে করেন, ভালো চলচ্চিত্র সবসময়ই দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং স্থায়ী ইতিবাচক শক্তি পৌঁছে দেয়।

 

ছোটবেলায় ইয়াম টাট ওয়াহের পরিবার অনেক দরিদ্র ছিলো। তাই তিনি বাইরে বিজ্ঞাপনে কাজ করতেন ও অর্থ উপার্জন করতেন। এরপর তিনি বিনোদন জগতে পা বাড়ান। বহু বছর ধরে নানা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রকাশ করেছেন। ২০১০ সালে ‘Echoes Of The Rainbow’ নামের চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি (Hong Kong Film Awards) হংকং ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসের সেরা অভিনেতার খেতাব পান।

গত শতাব্দীর ৮০ ও ৯০-এর দশকে ইয়াম টাট ওয়াহ চীনের মুলভূভাগে ভ্রমণ করেছেন। তখন মুলভূভাগের পরিবহনব্যবস্থা ততটা ভালো ছিল না। তবে তিনি বলেন, যেখানে আমরা ঘুরে বেড়িয়েছি, সেখানকার মানুষ অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ ও অতিথিপরায়ণ।

 

ইয়াম টাট ওয়াহের  পৈত্রিক বাড়ি চীনের শানতোং প্রদেশ। তিনি মাঝেমাঝে বলেন, আমি শানতোংয়ের মানুষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি থাই পাহাড় ছাড়া শানতোং প্রদেশের প্রায় সব জায়গায় ঘুরেছেন। গত বছরে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি থাই’আন শহরে আসেন। তিনি বলেন, শানতোংয়ের মানুষ হিসেবে আমাকে থাই পাহাড়ে যেতেই হবে। দু’মাস সময়ে তিনি মোট ১৫ বার থাই পাহাড়ে আরোহণ করেছেন। তিনি নিজেই বুঝতে পারেন না যে, হংকংয়ের অধিবাসী হয়েও তিনি কেন শানতোংয়ের সবুজ পেঁয়াজ ও রসুন খেতে পছন্দ করেন। এর স্বাদ এত ভালো লাগে কেন!

 

বিশাল ও বিস্তৃত মাতৃভূমির অনেক দৃশ্য তাকে বিস্মিত করে। তিনি আশা করেন, হংকংবাসী বিশেষ করে হংকংয়ের তরুণ তরুণী চীনের মুলভূভাগে বেড়াবে এবং দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানবে। বই বা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নয়, নিজ উদ্যোগে মুলভূভাগের দৃশ্য উপভোগ করা অন্য রকম অনুভূতি বলে তিনি মনে করেন।

 

ইয়াম টাট ওয়াহ বলেন, গত শতাব্দীর ৬০-এর দশকে মুলভূভাগ দরিদ্র ছিলো। তখন অনেক ভালো জিনিস হংকংয়ে সরবরাহ করা হতো। তার স্মৃতিতে ছোটবেলায় হংকংয়ে পানির অভাব ছিলো। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণে পানি সরবরাহ করা হতো। প্রতি চার দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা পানি পাওয়া যেতো। গ্রীষ্মকাল অনেক গরম থাকতো। পানি না থাকলে অনেক কষ্টকর হয়ে যেতো। পরে আমাদের মাতৃভূমি তোংচিয়াং নদীর পানি সরবরাহের মাধ্যমে সে সমস্যা সমাধান করেছে।

 

বর্তমানে হংকংয়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়। অতীতের সঙ্গে তুলনা করলে মাতৃভূমির প্রতি ইয়াম টাট ওয়াহ অনেক কৃতজ্ঞ বোধ করেন। তিনি বলেন, একজন চীনা হিসেবে আমি অনেক গর্বিত। আমাদের পিছনে শক্তিশালী মাতৃভূমির সমর্থন রয়েছে।

দেশের দ্রুত উন্নয়নে তিনি বেশ মুগ্ধ। পরিবহন খাতকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হংকংয়ের কেন্দ্র থেকে ইউয়েন লোং অঞ্চল পর্যন্ত গাড়ি চালাতে মোট ২০ মিনিট সময় লাগে, এখন শেনচেন থেকে কুয়াংচৌ পর্যন্ত দ্রুত গতির রেলগাড়িতে মাত্র ২০ মিনিটে যাতায়াত করা যায়।

 

তিনি মনে করেন, এখন জনগণ আগের চেয়ে বেশি সুখী হয়েছে। মহামারী প্রতিরোধ বা দারিদ্র্যবিমোচন, যাই হোক না কেন, দেশ জনগণের জন্য অনেক কাজ করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটি বরাবরই জনগণের সুখকে প্রথম স্থানে রেখেছে। এবারের মহামারী প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে চীন সবচেয়ে ভালো করেছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে একে অপরকে সাহায্য করলে এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে মোকাবিলা করলে সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করা যাবে বলে তিনি মনে করেন।

 

আগামী বছর হংকংয়ের মাতৃভূমির কোলে ফিরে আসার ২৫তম বার্ষিকী। এ সংক্রান্ত একটি মুভিতে অভিনয় করার প্রত্যাশা করছেন তিনি। আমি একজন ট্রাম চালকের চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। ট্রাম চালিয়ে হংকংয়ের বিভিন্ন যুগ অতিক্রম করা এবং ট্রামে ঘটে যাওয়া নানা গল্প বলতে চাই। এসব গল্প ভালোবাসা, মৈত্রী এবং দেশ ও বাসস্থানের প্রতি গভীর অনুভূতি প্রকাশ করে। চলচ্চিত্রে পরিবর্তন ও পরিশ্রমের গল্প ফুটে ওঠে।

 

(লিলি/তৌহিদ/শুয়েই)