Web bengali.cri.cn   
ভারতীয় শিল্পকর্ম প্রদর্শনী পেইচিংয়ে
  2012-07-17 16:46:17  cri

'ইন্ডিয়ান হাইওয়েই' শীর্ষক ভারতের আধুনিক শিল্প প্রদর্শনী গত ২৪ জুন পেইচিং ইউসিসিএ শিল্পকেন্দ্রে শুরু হয়েছে। এ প্রদর্শনী চলবে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত। প্রদর্শনীতে ভারতের প্রায় ৩০জন শিল্পীর চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য ও স্থাপত্যকর্ম স্থান পেয়েছে। শিল্পকর্মগুলোতে ভারতীয় সমাজের জেন্ডার, ধর্ম এবং ধনী-দরিদ্র বৈষম্যসহ বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো ভারতীয় সমাজ জানার জন্য চীনা দর্শকদের কাছে একটি সরাসরি ও সত্যিকার জানালা। সুতরাং প্রদর্শনীটি জনপ্রিয় হচ্ছে।

গু হাইচুন পেইচিং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী। তিনি প্রথমবারের মতো সরাসরি ভারতের শিল্পকর্ম দেখেন এবার। যদিও বেশিরভাগ শিল্পকর্মের মর্মার্থ তিনি বুঝেন নি, তবুও ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি তাঁর আগ্রহে কোনো কমতি নেই। তিনি বলেন,

"জীবনের উত্থানপতন' শীর্ষক শিল্পকর্মটি আমার মনের ওপর সবচেয়ে বেশি ছাপ ফেলেছে। এটা মানুষের মধ্যে সম্পর্ক প্রকাশ করেছে। আমি আরো বেশি ভারতীয় সংস্কৃতি ক্ষেত্রের বিষয় উপলব্ধি করতে চাই।"

তিনি আরো বলেন, 'আমার ভাষণ শুনুন' শীর্ষক গ্রুপ-মুখচিত্রটিও তাঁকে খুব আকর্ষণ করে। গ্রুপ শিল্পকর্মটি করা হয়েছে ৬টি সমকোণী চতুর্ভুজ বোর্ডের ওপর। প্রত্যেক বোর্ডে ভারতের ধর্মীয় ছবি আঁকার পদ্ধতিতে সাদা রঙের পটভূমিতে বিভিন্ন রঙে প্রায় ৩শ' মানুষের জীবনযাপন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ধর্মনিষ্ঠভাবে উপসনারত মানুষ, বাজারের সবজি বিক্রেতা, মানুষের মধ্যে খেলাধুলারত খালি পায়ের শিশু, ভারতের কিংবদন্তি দেবতা এমনকি মার্কিন কার্টুন ব্যাটমান প্রতিপাদ্য এসব শিল্পকর্মের। ছবির অধিকাংশ মানুষকে এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যে তাদেরকে দর্শকদের মুখোমুখি দেখায়। তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন এবং তাদের দৃষ্টিপাতও সরল। এ শিল্পকর্মগুলোতে বিধৃত বিভিন্ন সামাজিক মর্যাদার মানুষ বিশ্বকে নিঃশব্দে সে সাংস্কৃতিক ও প্রাচীন দেশের অতীত ও বর্তমান এবং ঐতিহ্য ও ফ্যাশন সম্পর্কে জানাচ্ছে।

ইয়ান ইয়ানও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী। তিনি মনে করেন, এবারের প্রদর্শনী ভারতীয় সমাজকে জানার আরেকটি উপায় যুগিয়েছে, যা আগে সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে দেখা ভারতের তুলনায় ভিন্ন।

তিনি বলেন,

"প্রদর্শনীটি খুবই আকর্ষণীয়। এতে প্রধানত ভারতের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও নগরায়ন - এ রকম বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সংস্কৃতি অগ্রগতির সঙ্গে তার প্রাচীন ধর্মীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়েছে। আমার মনে হয় প্রদর্শনী হচ্ছে একদিকে একটি খুবই ভালো দেখার বিষয়, অন্যদিকে ভারতকে জানার সুযোগ। শুধু খবর থেকে ভারতকে জানা নয়, বরং তার আধুনিক শিল্পকর্ম ও সংস্কৃতির দিক থেকে ভারতের উন্নয়ন ও সংস্কৃতিকে বোঝা যাবে এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে।"

চীনা দর্শক ছাড়া এ প্রদর্শনী অনেক বিদেশিকেও আকর্ষণ করছে। পাকিস্তানের জামিল প্রথমবারের মতো চীন ভ্রমণে এসেছেন। তিনি ম্যাগাজিন থেকে এবারের ভারতীয় শিল্প প্রদর্শনীর খবর পাওয়ার পর এ জায়গাটিকে পেইচিং ভ্রমণের প্রথম বিরতির স্থান হিসেবে নির্ধারণ করেন। তিনি বলেন,

"আমার মনে হয় প্রদর্শনীটি খুবই মজার। এখানকার শিল্পকর্মগুলো সব নামকরা শিল্পীদের তৈরি। আমি মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতিকে আরো পছন্দ করি। ডিজিটাল প্রযুক্তি আছে। ভিডিও-ও আছে। আমার মনে হয়, পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে করা কাজ বিপুল সংখ্যক দর্শককে আকর্ষণ করে। এসব কাজে অনেক সময় ও শ্রম লাগে। সাধারণত এটা খুবই মজার। এটা আমার পরিকল্পনার বাইরে ছিল। কারণ আমি পাকিস্তান থেকে এসেছি। চীনে আসার পর প্রথম বিরতি হচ্ছে এ প্রদর্শনী দেখা।"

ফিলিপ টিনারি হচ্ছেন ইউসিসিএ'র প্রধান। পাশাপাশি তিনি এবারের প্রদর্শনীর পরিকল্পনাকারও। চীন-ভারত শিল্প যোগাযোগের জন্য এ��টি সেতু প্রতিষ্ঠায় তিনি অত্যন্ত লাভবান এবং এবারের প্রদর্শনী শুধু একটি সূচনা। তিনি বলেন,

"আমার মনে হয় এটা খুবই মজার। চীনে তুলনামূলকভাবে সার্বিক ভারতের আধুনিক প্রদর্শনী করা হয়নি। সেকারণে অন্য উপায়ে সহযোগিতা চালানোর এবং আমাদের গ্রীষ্মকালের বড় প্রদর্শনীর বিষয় হিসেবে ভারতকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।"

ভি. সোলানকি ভারতের একজন বিখ্যাত শিল্পী। এবারের প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী ভারতের শিল্পীদের মধ্যে অধিকাংশই তাঁর বন্ধু। মাত্র ৪ দিনের চীন ভ্রমণে তিনি দু'বার এ প্রদর্শনীতে এসেছেন। চীনা দর্শকরা ভারতীয় শিল্পীদের শিল্পকর্ম এতো পছন্দ করে দেখে তিনি খুব আনন্দিত হয়েছেন। তিনি বলেন,

"এটা খুব ভালো একটি প্রদর্শনী। এ প্রদর্শনী আধুনিক ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করে। আমি অবশ্যই এসব শিল্পকর্ম পছন্দ করি। কারণ এগুলো আমার দেশ থেকে এসেছে। এসব শিল্পীরা আমার চেয়ে নবীণ। তাদের ভাবনা ও সৃষ্টির উপায় আরো উন্নত। তারা ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করেন। এসব শিল্পকর্ম হচ্ছে ভারতের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি।"

কোনো কোনো দর্শকরা বলেছেন, যোগাযোগ দিন দিন ঘনিষ্ঠ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল সংস্কৃতিকে আস্তে আস্তে চীনা দর্শকরা জানতে পারছে। শিল্প এশিয়ার দু'টি বৃহত্তম দেশের জনগণের হৃদয় কাছে টানে। তাঁরা বিশ্বাস করে, আরো বেশি ভারতীয় সাংস্কৃতিক শিল্পকর্ম এক দশক আগে 'আওয়ারা হুঁ' গানের মতো চীনে পরিচিত ও জনপ্রিয় হবে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন
মন্তব্যের পাতা
ভিডিও চিত্র
সাক্ষাত্কার
চিঠিপত্র
Play Stop
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040