Web bengali.cri.cn   
২৬ মার্চ হাইনানে শুরু হচ্ছে 'বোয়াও এশীয় ফোরাম, ২০১৫'-এর বার্ষিক অধিবেশন
  2015-03-23 16:12:43  cri

'বোয়াও এশীয় ফোরাম, ২০১৫'-এর বার্ষিক অধিবেশন আগামী ২৬ থেকে ২৯ মার্চ চীনের হাইনান প্রদেশের বোয়াওতে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে: 'এশিয়ার নতুন ভবিষ্যত: অভিন্ন লক্ষ্যে কমিউনিটি গড়ে তোলা'।

বোয়াও এশীয় ফোরামের মহাসচিব চৌ ওয়েন চোং গত ১৭ মার্চ পেইচিংয়ে জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষনেতারা এ বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এবারউপস্থিত নেতাদের সংখ্যা অতীতের যে-কোনো সময়ের চেয়ে বেশি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বোয়াও এশীয় ফোরামের মহাসচিব চৌ ওয়েন চোং গত ১৭ মার্চ পেইচিংয়ে 'বোয়াও এশীয় ফোরাম, ২০১৫'-এর বার্ষিক অধিবেশনের প্রস্তুতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এসময় তিনি বলেন, 'স্বাগতিক চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তা ছাড়া, ২০১৫ সালের বোয়াও এশীয় ফোরামের বার্ষিক অধিবেশনে যে সকল বিদেশি নেতা উপস্থিত থাকবেন, তাদের নামের তালিকাও প্রকাশ করা হবে। এবারের অধিবেশনে উপস্থিত নেতাদের সংখ্যা আগের যে-কোনো অধিবেশনের চেয়ে বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।'

প্রেস ব্রিফিংয়ে চৌ ওয়েন চোং জানান, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, গবেষক ও তথ্যমাধ্যমের সদস্যসহ দুই সহস্রাধিক প্রতিনিধি এবারের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন এবং ৭৭টি আনুষ্ঠানিক আলোচনা সভায় অংশ নেবেন। এসব সভায় মূলত সামষ্টিক অর্থনীতি, আঞ্চলিক সহযোগিতা, শিল্পের রূপান্তর, নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন, রাজনীতির নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা করা হবে। 'আঞ্চলিক সহযোগিতা' ফোরামের মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে গণ্য হবে বলেও তিনি জানান।

চৌ ওয়েন চোং বলেন, "আঞ্চলিক সহযোগিতা বরাবরই এ ফোরামের প্রধান আলোচ্য বিষয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এশীয় অঞ্চলে সহযোগিতার প্রবণতা দ্রুত বিকশিত হয়েছে। এবারের বার্ষিক অধিবেশনে 'এক অঞ্চল, এক পথ', 'আসিয়ান কমিউনিটি', 'পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক কমিউনিটি'সহ বিভিন্ন শিরোনামে আলোচনা হবে।"

ফোরামের এবারের অধিবেশনে যে দু'টি নতুন বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাবে সেগুলো হচ্ছে: 'ব্যক্তি উদ্যোগ' এবং 'উদ্ভাবন'। মাইক্রোসফ্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং অন্য শিল্পপতিরা প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও মানবজাতির টেকসই উন্নয়ননিয়ে সংলাপ করবেন। বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেট খাতের বিশেষজ্ঞ এবং অর্থ, রিয়্যাল এস্টেট, ঘরোয়া বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিসহ নানা শিল্পসংশ্লিষ্ট নেতাদের মধ্যেও সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

অধিবেশনে কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা, দুর্নীতি দমন, রাজনীতির সাথে বাণিজ্যের সম্পর্ক, ভাইরাস ও গণস্বাস্থ্য, ধোঁয়াশা ও গণস্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে।

অন্যদিকে, চীনের সর্বোচ্চ গণ আদালতের প্রেসিডেন্ট চৌ ছিয়াং এবং ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া ও ব্রাজিলসহ ব্রিক্সভুক্ত দেশগুলোর বিচারপতিরা 'কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন: আইনের শক্তি' শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় অংশ নেবেন।

এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী অর্থনৈতিক ফোরাম হিসেবে বোয়াও এশীয় ফোরাম স্বীকৃত। আলোচ্য প্রেস ব্রিফিংয়ে 'বোয়াও এশীয় ফোরাম, ২০১৫' বার্ষিক অধিবেশনের সচিবালয় থেকে 'এশিয়ার অর্থনীতির একত্রীকরণের প্রক্রিয়া', 'এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতার শক্তি' এবং 'নবোদিত অর্থনৈতিক সত্তার উন্নয়ন' শীর্ষক তিনটি রিপোর্টও প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে 'এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতার শক্তি'শীর্ষকরিপোর্টের প্রধান দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, চীনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিনিময় কেন্দ্রের পরামর্শ গবেষণা বিভাগের উপ-প্রধান ওয়াং জুন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ২০১৪ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতা-শক্তির সার্বিক মূল্যায়ন-সূচকের তালিকা প্রকাশ করেন।তালিকায় 'এশিয়ার চার বাঘ' খ্যাত চারটি দেশ শীর্ষস্থানে রয়েছে। এক্ষেত্রে চীনের অবস্থান আগের মতোই রয়েছে। তালিকায় স্থান-পাওয়া ৩৭টি অর্থনৈতিক সত্তার মধ্যে চীন আছে নবম স্থানে।

ওয়াং জু জানান, ২০১৪ সালে এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিশ্বের অর্থনীতিকেযেমন শক্তি যুগিয়েছে, তেমনি এশীয় দেশগুলোর ভবিষ্যত অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তাও বাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, "মার্কিন ডলারের সুদ বৃদ্ধিসহ নানা ঝুঁকি গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ধাপে ধাপে বেড়েছে। বিশ্বের অর্থ��ৈতিক ঝুঁকির ধারাও পরিবর্তিত হচ্ছে। এশিয়ার নবোদিত বাজারে বিনিয়োগ, বিশেষ করে ঋণদাতাদের বিনিয়োগ ক্রমশ কমেছে। কয়েকটি দেশ বিদেশি অর্থের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আর কয়েকটি দেশের আর্থিক বাজারে বিদেশি পুঁজির অনুপাত বেড়েছে। এ দেশগুলো ২০১৫ সালে ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনার চাপ অনুভব করবে। তা ছাড়া,চীন ও জাপানের মতো এশিয়ার শিল্পোন্নত অর্থনৈতিক সত্তাগুলোবড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।"

রিপোর্টটিতে আরো বলা হয়েছে, এশিয়ার অধিকাংশ অর্থনৈতিক সত্তার প্রথম ও দ্বিতীয় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের উত্স চীনের অর্থনীতি বর্তমানে নতুন স্বাভাবিক অবস্থায় প্রবেশ করেছে। এ অবস্থায় এশিয়ার এসব দেশের ভবিষ্যত সম্ভাবনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার শক্তি অর্জন প্রক্রিয়ার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব এখন গুরুত্বপুর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। (ইয়ু/আলিম)

মন্তব্য
Play
Stop
ওয়েবরেডিও
বিশেষ আয়োজন
অনলাইন জরিপ
লিঙ্ক
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040