Web bengali.cri.cn   
ক্যান্সার প্রতিরোধে দূরে থাকুন ৭ ধরণের খাদ্য থেকে
  2015-07-19 18:36:57  cri


ক্যান্সার দুরারোগ্য ব্যাধি। যদিও, ক্যান্সারের নানা ধরনের চিকিত্সা আজকাল হচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্যান্সারে সেসব চিকিত্সা বেশ কার্যকর বলেও প্রমাণিত, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ক্যান্সার মানেই মৃত্যু। তাই এই ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা যদি স্রেফ কয়েক ধরনের খাবার না-খেয়ে কমিয়ে আনা যায়, তবে মন্দ কী! হ্যা, আমরা আজকের অনুষ্ঠানে তেমন ৭ ধরনের খাবার নিয়ে আলোচনা করবো। এসব খাবার থেকে দূরে থাকলে, আপনার ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা কমে যাবে।

সম্প্রতি স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটে এমন ৭ ধরণের খাবারের কথা বলা হয়েছে, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। বিশেষ করে এসব খাদ্য থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধ করার জন্য। আমরা এখানে এই ৭ ধরনের খাবার নিয়ে আলোচনা করবো। তবে তার আগে ক্যান্সার সম্পর্কে কিছু তথ্য শ্রোতাদের জানাতে চাই। ক্যান্সার বা কর্কটরোগ অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত রোগসমূহের সমষ্টি। এখনও পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। কারণ হচ্ছে প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার রোগ সহজে ধরা পরে না, ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো কোনও চিকিত্সা দেয়াও সম্ভব হয় না। বাস্তবিক অর্থে এখনও পর্যন্ত ক্যান্সারের চিকিত্সায় পুরোপুরি কার্যকর কোনও ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। ক্যান্সার সারানোর জন্য বিভিন্ন ধরেনর চিকিত্সাপদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেকখানি। ২০০ প্রকারেরও বেশি ক্যান্সার রয়েছে। প্রত্যেক ক্যান্সারই আলাদা আলাদা এবং এদের চিকিত্সা পদ্ধতিও আলাদা। বর্তমানে ক্যান্সার নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে এবং এ সম্পর্কে নতুন নতুন অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

বিশ্বের সমস্ত প্রাণীর শরীর অসংখ্য ছোট ছোট কোষের মাধ্যমে তৈরি। এই কোষগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর মারা যায়। এই পুরনো কোষগুলোর জায়গায় নতুন কোষ এসে জায়গা করে নেয়। সাধারণভাবে কোষগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং নিয়মমতো বিভাজিত হয়ে নতুন কোষের জন্ম দেয়। সাধারণভাবে বলতে গেলে, যখন এই কোষগুলো কোনও কারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে তখনই ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায়। একেই টিউমার বলে। এই টিউমার বিনাইন বা ম্যালিগন্যান্ট হতে পারে। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকেই ক্যান্সার বলে। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজনক্ষম হয়ে বৃদ্ধি পাওয়া কলাকে নিয়োপ্লাসিয়া (টিউমার) বলে, এবং সেরকম ক্রিয়াযুক্ত কোষকে নিয়োপ্লাস্টিক কোষ বলে। নিওপ্লাস্টিক কোষ আশেপাশের কলাকে ভেদ করতে না-পারলে তাকে বলে নিরীহ বা বিনাইন টিউমার। বিনাইন টিউমার ক্যান্সার নয়। নিওপ্লাসিয়া কলা ভেদক ক্ষমতা সম্পন্ন হলে তাকে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বা ক্যান্সার, এবং তার অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনক্ষম ভেদক ক্ষমতাযুক্ত কোষগুলিকে ক্যান্সার কোষ বলে। অনেক ক্যান্সার প্রথমে বিনাইন টিউমার হিসাবে শুরু হয়, পরে তার মধ্যেকার কিছু কোষ পরিবর্তিত (ট্রান্সফর্মেসন) হয়ে ম্যালিগন্যান্ট (অর্থাৎ ভেদক ক্ষমতাযুক্ত) হয়ে যায়। তবে বিনাইন টিউমার ক্যান্সারে পরিবর্তিত হবেই তার কোন নিশ্চয়তা নেই। কিছু বিনাইন টিউমারসদৃশ ব্যাধি আছে যাতে ক্যান্সার হওয়া অবশ্যম্ভাবী - এদের প্রি-ক্যান্সার বলে। নামে বিনাইন অর্থাৎ নিরীহ হলেও বিনাইন টিউমারও চাপ দিয়ে আশেপাশের কলার ক্ষতি করতে পারে। মেটাস্টাসিস হলো ক্যান্সারের একটি পর্যায়, যাতে ক্যান্সার কোষগুলি অন্যান্য কলাকে ভেদ করে ও রক্ত, লসিকাতন্ত্র (Lymphatic System) ইত্যাদির মাধ্যমে দূরবর্তী কলায় ছড়িয়ে যায়।

ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ আগে থেকে বোঝা যায়।

* খুব ক্লান্ত বোধ করা

* ক্ষুধা কমে যাওয়া

* শরীরের যে কোন জায়গায় চাকা বা দলা দেখা দেয়া

* দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা গলা ভাঙ্গা

* মলত্যাগে পরিবর্তন আসা (ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা মলের সাথে রক্ত যাওয়া)

* জ্বর, রাতে ঠান্ডা লাগা বা ঘেমে যাওয়া

* অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমা

* অস্বাভাবিক রক্তপাত হওয়া

* ত্বকের পরিবর্তন দেখা যাওয়া ইত্যাদি।

 লক্ষণ হিসেবে যাকিছু বলা হলো, সেগুলোর এক বা একাধিক দেখা দিলেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এসব লক্ষণ অন্য কোনো কারণেও দেখা দিতে পারে। তাই ভয় না-পেয়ে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হোন। সে যাক, আমরা আজ যে ৭ ধরনের খাবার সম্পর্কে আলোচনা করবো তার প্রথমটি হচ্ছে:

১. অত্যধিক গরম খাবার

 বেশি গরম খাবার খেলে আমাদের পরিপাকতন্ত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি চাপ পড়ে। অত্যধিক গরম খাবার খেলে পরিপাকতন্ত্রের ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা বাড়ে। অত্যধিক গরম খাবার খাদ্যনালীর ক্যান্সারের অন্যতম মূল কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাই আসুন, আমরা খুব বেশি গরম খাবার খাওয়া ত্যাগ করি। তার মানে এই নয় যে, খাবার ঠাণ্ডা করে খেতে হবে। সহনীয় ও কম গরম খাবার খান।

২. ভাজা-পোড়া খাবার

 ভাজা-পোড়া খাওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। আমি জানি, অনেকেই এ ধরনের খাবার খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি বেশি ভাজা-পোড়া খেলে পাকস্থলীর ক্যান্সার, কলোরেক্টাল ক্যান্সার ও লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। মনে রাখতে হবে, ভাজা-পোড়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য এমনিতেও ভালো নয়।

তিন: মদ বা ওয়াইন

 মদ্যপান নিয়ে আগের অনুষ্ঠানগুলোতে একাধিকবার আলোচনা করেছি। অতিরিক্ত মদ্যপান আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এখানে আমি চীনের শানতুং প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উদাহরণ দিতে চাই। সেখানকার লোকজনের মধ্যে খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এর কারণ, ওখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ অতিরিক্ত মদ্যপান করেন। আসলে ১৯৬৪ সালেই বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছিল যে, অতিরিক্ত মদ্যপানের সাথে মুখগহ্বরের ক্যান্সার ও খাদ্যনালীর ক্যান্সারের সম্পর্ক সরাসরি। সুতরাং, অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে। অবশ্য, আমাদের শ্রোতাদের একটা বড় অংশ মুসলিম এবং আমরা জানি যে, ইসলামে মদ্যপান করাই নিষিদ্ধ।

 চার: কফি

কফির ভেতরে যে উপাদানটি প্রচুর পরিমাণে থাকে সেটির নাম ক্যাফেইন। আর ক্যাফেইনকে অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার ও মূত্রাশয় ক্যান্সরের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এক জরিপ থেকে জানা গেছে, যারা মাঝে মাঝে কফি পান করেন, তাদের এ দুটি ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা যারা কফি পান করেন না তাদের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি। বিশেষ করে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অন্তত অর্ধেক অতিরিক্ত কফি খাওয়ার কারণে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। কফি যতো কম খাওয়া যায়, ততই ভালো।

পাঁচ: লবণাক্ত খাবার

আপনি এ ধরণের খাবার খেতে পছন্দ করেন কি? যেমন, নোনতা মাছ, সবজির আচার, নোনতা চিপস ইত্যাদি? গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, লবণাক্ত খাবার বেশি খেলে পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এখানে জাপানের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। জাপানি জেলেরা নোনতা মাছ বেশি খায়। তাই তাদের মধ্যে পাকস্থলীর ক্যান্সার ও খাদ্যনালীর ক্যান্সার বেশি দেখা যায়।

ছয়: পচা খাবার

 পচা খাবার খেলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা বেড়ে যায়। আমরা অবশ্য সাধারণত পচা খাবার খাই না। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, অনেক পশু-পাখি পচা খাবার খায়। আমাদের ভালো খাবার যদি এসব পশু-পাখির সংস্পর্শে আসে, তবে আমার তা থেকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারি।

 সাত: সবজি ও মাংসের আচার

 নাইট্রাইটকে ক্যান্সার উত্পাদক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অথচ সবজি ও মাংসের আচারে প্রচুর নাইট্রাইট থাকে। আরেকটি কথা বলতে চাই যে, বাসি খাবারের মধ্যেও নাইট্রোসো নামের ক্ষতিকর পদার্থ সৃষ্টি হতে পারে। তাই বাসি খাবার থেকেও দূরে থাকা ভালো।

(ওয়াং হাইমান/আলিম)

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন
মন্তব্য
Play
Stop
ওয়েবরেডিও
বিশেষ আয়োজন
অনলাইন জরিপ
লিঙ্ক
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040