Web bengali.cri.cn   
জন্মদিনের উপহার সম্পর্কে জানুন,নতুন করে ভাবুন
  2015-10-12 18:06:51  cri


আমাদের প্রত্যেকের জীবনে নিশ্চয়ই অন্যের উপহার পাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। আর এসব উপহারের মধ্যে জন্মদিনের উপহার আরো বিশেষ এবং তাত্পর্যপূর্ণ, তাইনা?

কারণ প্রত্যেকের জন্মদিন নিজের জন্য বিশেষ দিন, তা বড় বড় উত্সবের তুলনায় ভিন্ন। এদিনটির সব শুভেচ্ছা, সব উপহার শুধুই আপনার জন্য।

মনে করতে পারেন কি একবার? জন্মদিনে আপনার পাওয়া কি কি উপহার আপনার সবচেয়ে প্রিয়? আজ আমরা আপনাদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাবো, দেখবো যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের জন্মদিনের উপহার কি রকমের, তার কি কি বৈশিষ্ট্য আছে। আমাদের বিশ্বাস, তা নিশ্চয়ই আপনাদের পছন্দ হবে।

বিশ্বের সব বাবা-মা'র কাছে শিশুর জন্মদিন অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাবা-মা ভীষণ আবেগ নিয়ে শিশুকে খুব সুন্দর এক উপহার দেন। তবে তা অনেক টাকার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বাবা-মা'র চিন্তাধারা এমন, জন্মদিনের উপহার হলো শিশুর প্রতি তাদের শুভেচ্ছা, প্রার্থনা এবং ভালোবাসার প্রতিফলন। যা অন্যান্য উপহারের মূল্যের চেয়ে আরো মূল্যবান।

এখন আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সাধারণ পরিবারের উদাহরণ নিয়ে আপনাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ আলাপ করবো।

প্রথমে আমরা যাবো জেনিফারের বাসায়। তার বাড়ি অনেক সুন্দর, বাড়ির পিছনে আছে একটি ছোট বাগান। তাতে বিভিন্ন রকমের সুন্দর ফুল এবং গাছ আছে। জেনিফারের একজন সত ছেলে আছে। তার নাম পিটার। জেনিফার ও তার স্বামীর বিয়ের অল্প কয়েক দিন পরই হলো পিটারের জন্মদিন। পিটারের জন্য পছন্দের একটি জন্মদিনের উপহার বাছাই করার জন্য জেনিফার অনেক চেষ্টা করেছেন। এদিন জেনিফার পিটারকে নিয়ে এক কৃষি খামারে যান। জেনিফার দেখেন যে, যখন পিটার কৃষি খামারের মোরগ দেখে, তখন পিটার অনেক খুশি হয়। তা দেখে জেনিফার বুঝতে পারেন তিনি পিটারকে জন্মদিনে কি উপহার দিতে পারেন।

পিটারের জন্মদিনে জেনিফার তার জন্য একটি গল্ফ খেলা বিষয়ক পার্টি আয়োজন করেন। পিটারের ঘরে গল্ফ মাঠের মত লন সাজানো হয়েছে। যখন মাথায় লাল ফুল পরা সাদা রং-এর একটি বড় মোরগ উপহার হিসেবে ঘরে প্রবেশে করে, তখন পার্টিতে অংশ নেয়া সব শিশু আনন্দে চিত্কার করে ওঠে। পিটার এ উপহারকে অনেক পছন্দ করে। আরো আনন্দের বিষয় হলো, এরপর পিটার ও জেনিফারের সম্পর্কও আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।

পোষা প্রাণীর প্রতি মার্কিন নাগরিকের বিশেষ ভালোবাসা আছে। তাই অনেক মার্কিন নাগরিক ঠাট্টা করে বলেন যে, মার্কিনীদের স্বপ্ন হলো, একটি বাড়ি, দু'টি শিশু, দু'টি গাড়ি এবং একটি কুকুর। তাদের স্বপ্নে নিশ্চয়ই একটি পোষ প্রাণী থাকতে হবে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে শিশুর জন্মদিনের সময় বাবা-মা শিশুকে একটি পোষা প্রাণী দিতে অনেক পছন্দ করেন। আর এ প্রথাও দেশটিতে অনেক জনপ্রিয়।

যেমন শার্লট শহরের ম্যাডাম ডগলাস, তার নিজের ৬টি ঘোড়া আছে। তার প্রভাবে ম্যাডাম ডগলাসের মেয়েও ছোটবেলা থেকে ঘোড়া বেশ পছন্দ করে। তাই যখন ডগলাসের মেয়ে��� ১০ বছর বয়স হয়, জন্মদিনের সময় ম্যাডাম ডগলাস তাকে একটি সুন্দর এবং লাভলি ছোট ঘোড়া উপহার হিসেবে দেন।

মার্কিন মেয়ে এমিলির ২১ বছর বয়সের জন্মদিন অন্য রকমের। জন্মদিনের কয়েক দিন আগে তার বাবা মার্ক তাকে জানান যে, জন্মদিনের সময় আগেই বাসায় পৌঁছাবে, তখন তার জন্য খুব বিশেষ একটি জন্মদিনের উপহার তার জন্য অপেক্ষা করবে।

জন্মদিনে এমিলি অনেক আগেই বাইরে থেকে বাসায় পৌঁছে, তবে সে দেখে বাসায় সব কিছুই আগের মত, কোনো বিশেষ কিছুই নেই। সে খুব হতাশ হয়। তবে সে কিছুই বলে নি। কারণ দু'বছর আগে তার বাবা-মার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তার বাবা তখন থেকে একাই থাকেন। এমিলি তার বাবাকে মর্মাহত করতে চায় না, তাই কিছুই বলে নি।

তবে রাত ১১টার সময় যখন এমিলি ঘুমাতে চায়, তখন তার বাবা মার্ক তাকে বলেন, আমরা বাইরে হাঁটাহাঁটি করি কিছুক্ষণ কেমন? তারপর প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা শহরের একটি পানশালায় পৌঁছে। পানশালায় ঢোকার আগেই সেবক এমিলির পরিচয়পত্র দেখতে চায় এবং তার বয়স নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী যুবকরা ২১ বছর বয়সী হলেই কেবল মদ পান করতে পারে। তখন ঠিক মধ্যরাত পার হয়ে গেছে, আর এমিলির বয়স ঠিক ২১ বছর হয়েছে। মার্ক এমিলিকে বলেন, আমি তোমার জীবনে প্রথম বিয়ার দিতে চাই। মার্ক আশা করেন, তার মেয়ে বুঝতে পারবে যে, এরপর থেকে তার জীবনে আর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। জীবনের প্রথম বোতল বিয়ার পানের সময় বাবা তার সঙ্গে আছে, তবে পরে সে নিজেই জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেরি তার পরিবারের একমাত্র মেয়ে। তার বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর, তার মা শিশুর মানসিক রোগের চিকিত্সক। প্রতি বছর তার জন্মদিনের সময় বাবা মা'র উপহার পায় মেরি। তবে এসব উপহার বেশি দামের নয়। মাঝে মাঝে খুব সুন্দর জুতা, মাঝে মাঝে ফুল। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছর বয়সের পর যদি ২৫ ডলার মূল্য বা এর চেয়ে আরো বেশি মূল্যের জন্মদিনের উপহার পায়, তাহলে কর দিতে হয়। তাই ১৮ বছর বয়সের পর মেরি বাবা মা'র দেওয়া নগদ ২০ ডলার জন্মদিনের উপহার হিসেবে পায়। সে এ টাকা নিয়ে নিজের পোষা প্রাণীর জন্য খাবার কিনে। তবে বেশিরভাগ সময় মেরির জন্মদিনের উপহার হলো বই।

মেরি স্মরণ করে বলে, ঠিক ছোটবেলায় একটি চিকিত্সার বই পড়ার পর সে ভবিষ্যতে একজন ডাক্তার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এখন পর্যন্ত মেরি বই পড়তে অনেক অনেক পছন্দ করে। তার বাবা মেয়ের শখ অনুযায়ী তার জন্য অনেক চিকিত্সা ক্ষেত্রের বই কিনে থাকেন এবং জন্মদিনের উপহার হিসেবে মেরিকে দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আরেকজন ছেলে অ্যালেক্সের ১৪ বছর বয়সের জন্মদিনে, তার বাবা-মা তার জন্য কোনো জন্মদিনের পার্টি আয়োজন করেন নি, বরং তাকে নিয়ে সকাল সাড়ে সাতটায় দশ কিলোমিটার দূরের একটি ছোট থানায় যান।

সেখানে একটি স্বেচ্ছাসেবকের প্রকল্প আছে। তা প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের লোকজনের জন্য বিনা খরচে বাড়িঘর নির্মাণ করার সাহায্য করা সম্পর্কিত। আর এ প্রকল্পের নাম হল হ্যাবিটাট। অ্যালেক্সের বাবা তিন বছর ধরে এ প্রকল্পে একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন। প্রতি সপ্তাহের ছুটিতে তিনি অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে দরিদ্র মানুষের জন্য বাড়িঘর নির্মাণে সাহায্য করেন।

আসলে তার ছেলে অ্যালেক্সের ১৪ বছর বয়সে জন্মদিনের উপহার হলো ছেলেকে এমন স্বেচ্ছাসেবক প্রকল্পে অংশ নেয়ার সুযোগ দেওয়া। সারা দিনের কাজ শেষে অ্যালেক্স বলে, কাজটা দেখতে সহজ, তবে করতে অনেক ক্লান্তি লাগে। ক্লান্তি লাগলেও সে খুব গর্ববোধ করে। কারণ অদূর ভবিষ্যতে এ বাড়িঘর অন্যকে সাহায্য করবে।

অ্যালেক্সের বাবা বলেন, তিনি আশা করেন তার ছেলে সক্রিয়ভাবে সামাজিক কাজে অংশ নেবে। এতে সে অন্যকে সাহায্য করার আনন্দ ও সুখ উপভোগ করতে পারবে। ভবিষ্যত জীবনে সে একজন দাতা হবে, গ্রহণকারী নয়। (শুয়েইফেইফেই/টুটুল)

সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন
মন্তব্য
Play
Stop
ওয়েবরেডিও
বিশেষ আয়োজন
অনলাইন জরিপ
লিঙ্ক
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040