Web bengali.cri.cn   
সুরের ধারায়: চীনের জাতীয় সংগীতের মাস্টার 'ফাং সিউ ওয়েন'
  2015-12-22 18:16:43  cri


এ পর্বের 'সুরের ধারায়' চীনের বিখ্যাত জাতীয় সংগীতের মাস্টার, চীনের কেন্দ্রীয় ব্রডকাস্টিং জাতীয় অর্কেস্ট্রার প্রতিষ্ঠাতা ফাং সিউ ওয়েন এবং তার সৃষ্টি অসাধারণ কিছু সুরের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো আপনাদের।

ফাং সিউ ওয়েন

বন্ধুরা, অনুষ্ঠানের শুরুতে শুনুন ফাং সিউ ওয়েন পরিচালিত 'বেগুনী বাঁশের সুর' নামের অনিন্দ সুন্দর সুরটি। এ সুর বসন্ত ও শরত্ এবং যুদ্ধমান রাজ্যসমূহের যুগে থাকা হান জাতির লোকসংগীত ছিলো। এরপর বিভিন্ন রাজবংশের শিল্পীরা এ সুরকে রূপান্তর করে এ পর্যন্ত প্রচার করেছেন।

প্রিয় শ্রোতা, ফাং সিউ ওয়েন চীনের জাতীয় সংগীতের একজন শ্রেষ্ঠ মাস্টার। চীনের জাতীয় ব্রডকাস্টিং অর্কেস্ট্রার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান সংগীত পরিচালক ও সুরকার তিনি।

ফাং সিউ ওয়েন ১৯৩১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি চীনের হুপেই প্রদেশের উহান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ বছর বয়সে তার বাবা মারা যান। নানার বাড়িতে বড় হয়েছেন তিনি।

তিনি সাত বছর বয়সে নিজের চাচার কাছ থেকে হুছিন বাজাতে শেখেন। তারপর যথাক্রমে লিউ জে লোং, হো ঈ ছুন ও ছুন আন হুয়ারের কাছে পিপা, বেহালা ও আরহু বাজাতে শেখেন।

১৯৫০ সালে ফাং সিউ ওয়েন ছোংছিং শহরের গণ বেতারে যোগদান করেন। তখন থেকে তিনি বিশ্বের অনেক সংগীতজ্ঞের শাস্ত্রীয় সংগীত শুনেন এবং প্রচুর সংগীত বিষয়ক বই পড়তে শুরু করেন। এভাবেই তার সংগীত জীবন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

১৯৫২ সালে ফাং সিউ ওয়েন কেন্দ্রীয় ব্রডকাস্টিং জাতীয় অর্কেস্ট্রায় যোগ দেন এবং নয়া চীনের প্রথম নতুন ধরণের পেশাগত জাতীয় অর্কেস্ট্রা ও চীনের ব্রডকাস্টিং জাতীয় অর্কেস্ট্রা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি এ অর্কেস্ট্রার সংগীত পরিচালক হন। এরপর তিনি এ অর্কেস্ট্রার উপ-প্রধান, প্রধান, শিল্প নির্দেশক ও প্রধান সংগীত পরিচালক হন। তিনি চীনে আধুনিক জাতীয় অর্কেস্ট্রা প্রতিষ্ঠায় অগ্রণীর ভূমিকা পালন করেন। তার এ অবদানের ফলে তিনি চীনা সংগীত জগতে ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছেন।

১৯৫৭ সালে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ষষ্ঠ বিশ্ব যুব উত্সবের শিল্পকলা প্রতিযোগিতায় 'বসন্তের নদীতে সুন্দর জোছনা রাত' 'সোনালী সাপের নাচ' এবং 'সীমান্ত পাহাড়ের চাঁদ' নামে তিনটি সুর সৃষ্টির জন্য স্বর্ণ পদক পান। এ কয়েকটি সুর চীনের জাতীয় অর্কেস্ট্রায় ক্লাসিক সুরে পরিণত হয়। ১৯৮৩ সালে ফাং সিউ ওয়েন চীনের ব্রডকাস্টিং জাতীয় অর্কেস্ট্রার প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন।

বন্ধুরা, এখন শুনুন ফেং সিউ ওয়েনের অসাধারণ সৃষ্টি ঐকতানিক কবিতা 'লিউ সুই ছাও'। এ সুর ১৯৮৪ সালে চীনের 'জাতীয় যাদ্যযন্ত্র বিষয়ক কাজ'-এ প্রথম শ্রেণীর পুরস্কার লাভ করে।

প্রিয় বন্ধুরা, 'আবেগের সঙ্গে সুর সমন্বিত করা এবং সুরের মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করা' হলো ফাং সিউ ওয়েনের সংগীত পরিচালনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তার পরিচালনায় চীনের 'ব্রডকাস্টিং জাতীয় অর্কেস্ট্রা' সমন্বয়, ভারসাম্য, নিখুঁত ও উন্নত কৌশলসহ নানা ক্ষেত্রে অত্যন্ত উঁচু মানে উন্নীত হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটি চীনের শ্রেষ্ঠতম জাতীয় অর্কেস্ট্রায় পরিণত হয়েছে তার দক্ষতার কারণেই।

‘@‘@ফাং সিউ ওয়েন চীনের জাতীয় সংগীতের উন্নয়নে বিরাট অবদান রেখেছেন। তিনি 'বসন্ত নদীতে সুন্দর জোছনা রাত', 'উঁচু আকাশের চাঁদ', 'প্রস্ফুটিত ফুল ও পূর্ণচন্দ্র' সহ প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি সুর সৃষ্টি করেছেন। তাছাড়া চীনের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র দিয়ে 'সুন্দর সোলো নদী' 'হোরো' এবং 'কাঠ কাটার গান' শীর্ষক প্রভৃতি বিদেশী নামকরা সংগীত বাজানোর চেষ্টা করেছেন এই মহান শিল্পী। তার অবদানের কারণে চীনের জাতীয় অর্কেস্ট্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।

1 2
মন্তব্য
Play
Stop
ওয়েবরেডিও
বিশেষ আয়োজন
অনলাইন জরিপ
লিঙ্ক
© China Radio International.CRI. All Rights Reserved.
16A Shijingshan Road, Beijing, China. 100040